আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার

জায়েদ আনসারী,সাভার:- আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ধর্ষণের শিকার হয়েছেন এক তরুণী। চাঞ্চল্যকর এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে পুলিশ ৬ সহযোগী সহ আটক করেছে বাসের চালক ও হেলপার কে। এ ঘটনায় ৫ দিনের পুলিশ হেফাজতে চেয়ে তাদের আদালতে পাঠিয়েছে পুলিশ। 
গ্রেপ্তারকৃতরা হলেন,ঢাকার তুরাগ থানার গুলবাগ ইন্দ্রপুর ভাসমান গ্রামের মো. আরিয়ান (১৮), কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার তারাগুনা এলাকার সাজু (২০), বগুড়ার ধুনট উপজেলার খাটিয়ামারি এলাকার সুমন (২৪) ও একই এলাকার সোহাগ (২৫), বগুড়ার দুপচাঁচিয়া উপজেলার জিয়ানগর গ্রামের সাইফুল ইসলাম (৪০) এবং নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানার ধামঘর এলাকার মনোয়ার (২৪)। 
পুলিশ বলছে, আটককৃতরা সবাই আবদুল্লাহপুর-বাইপাইল-নবীনগর মহাসড়কের পরিবহন শ্রমিক।

ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ) আব্দুল্লাহিল কাফী জানান, ভুক্তভোগী নারী নারায়ণগঞ্জে স্বামী ও সন্তান নিয়ে থাকেন। তিনি সেখানে একটি পোশাক কারখানার শ্রমিক। তাঁর স্বামীর বাড়ি লালমনিরহাটে।
নারায়ণগঞ্জ থেকে ছোট ভাইকে সঙ্গে নিয়ে ভুক্তভোগী তরুণী বেড়াতে গিয়েছিলেন মানিকগঞ্জে,বোনের বাসায়।
শুক্রবার রাতে সেখান থেকে ফেরার পথে আশুলিয়ায় চলন্ত বাসে দলবদ্ধ ভাবে ধর্ষণের শিকার হন তিনি। তার আর্ত চিৎকারে আশুলিয়া থানা পুলিশ  হাইওয়ে পুলিশের সহযোগিতায় আটক করে বাসটির চালক হেলপার সহ তাদের অপর চার সহযোগী কে।
মামলার এজাহার ওই তরুণী জানান, তার বোন মানিকগঞ্জে থাকেন। গতকাল শুক্রবার তিনি বোনের বাসায় যান। সন্ধ্যা সাড়ে ছয়টার দিকে মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড থেকে নারায়ণগঞ্জে নিজের বাসায় ফেরার জন্য তিনি বাসে ওঠেন। রাত আটটার দিকে আশুলিয়ার নবীনগর বাসস্ট্যান্ডে তাঁকে নামিয়ে দেওয়া হয়। এ সময় বাসের জন্য তিনি অপেক্ষা করতে থাকেন। রাত নয়টার দিকে নিউ গ্রামবাংলা পরিবহনের একটি মিনিবাসের চালকের সহকারী মনোয়ার ও সুপারভাইজার সাইফুল ইসলাম এসে টঙ্গী স্টেশন রোডের কথা বলে তাঁর কাছে ৩৫ টাকা ভাড়া চান। তিনি মিনিবাসে উঠলে গন্তব্যে যাওয়ার আগেই সব যাত্রীকে নামিয়ে দেওয়া হয়। চালক বাসটি নিয়ে আবার নবীনগরের দিকে রওনা হন। এ সময় বাসের জানালা ও দরজা আটকে বাসের চালক, সহকারীসহ ছয়জন ওই নারীকে ধর্ষণ করেন। টহল পুলিশ বাসটি থামিয়ে ভুক্তভোগীকে উদ্ধার করে। এ সময় ওই ছয়জনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ।
দুপুরে ওই তরুণীকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য পাঠানো হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ওয়ান স্টপ ক্রাইসিস সেন্টারে।
অন্যদিকে আটককৃতদের পাঁচদিনের পুলিশ রিমান্ড চেয়ে আদালতে পাঠানো হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *