প্রথম আলোর চাকুরি খুইয়ে বেসামাল অরূপ রায়, অপকর্মের সঙ্গী মোমেন!

মোঃ জায়েদ আনসারী,সাভারঃ-কথায় কথায় নিরীহ মানুষদের থানা পুলিশের ভয় দেখানো, মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার হুমকি, উচ্চ আদালতের বিচারকদের সাক্ষর জাল করাসহ বিভিন্ন অভিযোগে দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অরূপ রায়কে বরখাস্ত করেছে দৈনিকটি।
তার পর থেকেই বিমর্ষ আর বেপরোয়া এই অরূপ রায়। শেষ বয়সে এসে চাকুরি হারানোর বেদনায় নিজের ব্যর্থতা ঢাকতে দৈনিকটির মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমেনকে নিজের অপকর্মের অংশীদার করার অভিযোগ উঠেছে অরূপ রায়ের বিরুদ্ধে।স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মিদের অভিযোগ, অনুসারীদের দিয়ে ফেসবুকে ভুয়া আইডি খুলে সাভারের জ্যেষ্ঠ সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে কাল্পনিক মিথ্যা কুরুচিপূর্ণ অপপ্রচারের মাধ্যমে তাদের চরিত্রহনন করার ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তিনি। করছেন হয়রানী।সর্বশেষ অরূপ রায়ের এমন জঘন্য ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন এনটিভির স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট জাহিদুর রহমান।
তিনি জানান, অরূপ রায়ের আশ্রয় ও প্রশয়ে থাকা যুব মহিলা লীগের নেত্রী কনক চাপাঁ কনা ও তার সাঙ্গ পাঙ্গরা সাংবাদিক জাহিদুর রহমানের ছবি বিকৃত করে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে তার বিরুদ্ধে অপ প্রচার শুরু করেন।
এ বিষয়ে থানায় তথ্য প্রযুক্তি আইনে অভিযোগে দায়ের করা হলে পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে অরূপ রায়ের পরিকল্পনায় ওই নারী তার বাসায় ইট পাটকেল ছোঁড়ার মতো কাল্পনিক, হাস্যকর ও মানহানিকর অভিযোগ করেন করেন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে।
পুলিশ তদন্তে নেমে কাল্পনিক সেই অভিযোগের কোন সত্যতা পায়নি। ওই নারীকে চারবার কল করে থানায় সিসি ক্যামেরার ফুটেজ জমা দেবার অনুরোধ করা হলেও তাতে তিনি সাড়া দেননি।
বিতর্কিত যুব মহিলা লীগের নেত্রী কনক চাঁপা কনা সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে যে কুৎসা রটনা করছেন সে বিষয়টি এড়িয়ে তার কাউন্টার অভিযোগকে ভিত্তি ধরে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠেন সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে।
থানায় করা লিখিত অভিযোগে তিনি সাংবাদিক জাহিদের বিরুদ্ধে সরাসরি-ও অভিযোগ আনেন নি। লিখেছেন, আমার ধারণা হইতেছে জাহিদুর রহমানের নির্দেশ ও পরিকল্পনায় তার বাড়িতে ইট পাটকেল ছুঁড়েছে।
কাল্পনিক এই ঘটনাকে পুঁজি করেই ফাঁদ পাতে অরূপ রায়। অপকর্মের সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করেন সাভারের সংবাদ প্রেরণের জন্যে দায়িত্বপ্রাপ্ত মানিকগঞ্জে দৈনিক প্রথম আলোর প্রতিনিধি আব্দুল মোমিনকে।
পরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের অভিযোগে সাংবাদিক জাহিদুর রহমানের সামাজিক সুনাম ও সন্মান ক্ষুন্ন করার উদ্দেশে আব্দুল মোমেন বক্তব্য নেন জাহিদুর রহমানের।
তবে সব কিছু জানা সত্বেও উদ্দেশ্যমূলক ভাবে তার সঠিক বয়স এবং পেশাগত পরিচয় আড়াল করে আব্দুল মোমেন প্রথম আলোর অনলাইন সংশ্লিষ্টদের ম্যানেজ করে কথিত এবং কাল্পনিক ঘটনার সংবাদটি প্রকাশ করেন প্রথম আলোর অন লাইনে।
কৌশলগত কারনে মোমেন নিজের লেখা বানোয়াট সংবাদটি ফেসবুকে নিজের ওয়ালে পোষ্ট না করে দ্রুত লিংক দেন অরূপ রায়কে।

 আর অরূপ রায় সেটাকে পুঁজি করেই অনুসারীদের দিয়ে বিভিন্ন প্রোফাইল ও গ্রুপে লিংকটি প্রকাশ করেন। এমনকি কৌশলে জাহিদুর রহমানের কর্মস্থলের উচ্চ পর্যায়ের ব্যক্তিদের ম্যাসেঞ্জারে দ্রুত লিংকটি পাঠিয়ে জাহিদের ভাবমূর্ত্তি ক্ষুন্ন করার ষড়যন্ত্র করেন।
তবে উদ্দেশমূলক সংবাদটি প্রথম আলো কর্তৃপক্ষের নজরে আসামাত্রই তারা ওই লিংক থেকে সংবাদটি দ্রুত সরিয়ে নেয়। ততক্ষনে অরূপ রায় ওই লিংকটি পোষ্ট করে জাহিদুর রহমানের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাতেই থাকে।
যোগাযোগ করা হলে প্রথম আলোর বার্তা বিভাগের নেতৃত্বে থাকা নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন সাংবাদিক জানান, প্রথম আলোর রয়েছে আধুনিক ও গতিশীল কাজের সংস্কৃতি। সুসাংবাদিকতা, জনমুখিতা, বদলের সহযোগী, সৃজনশীলতা ও সংহতি- এই পাঁচটি মূল্যবোধ আমাদের মূল চালিকাশক্তি। সংবাদটি আমাদের গোচরে আসা মাত্রই আমরা সাইট থেকে তা সরিয়ে নিয়েছি। বার্তা বিভাগ সংবাদটির উৎস খতিয়ে দেখছে। কারা কি উদ্দেশে সংবাদটি প্রচার করেছে তাও আমরা দেখছি।
ভূক্তভোগী সাংবাদিক জাহিদুর রহমান জানান, আমি আব্দুল মোমেনের এই আচরনে যার পর নাই বিস্মিত এবং হতবাক। মোমেনকে আমি দীর্ঘদিন ধরেই চিনি। চলতি বছরের প্রথম দিকে এনাম মেডিকেল হাসপাতালে আব্দুল মোমেন তার বাবার চিকিৎসা নিতে এসেছিলেন। হাসপাতালের পরিচালক হিসেবে সব সময় তার বাবার খোঁজ খবর নিয়েছি। এবং চিকিৎসা ব্যয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে সহায়তাও করেছি। তিনি যে অরূপ রায়ের ফাঁদে এভাবে পা দেবেন তা কল্পনাও করিনি। যোগ করেন জাহিদ।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, দৈনিক প্রথম আলো পত্রিকার মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমিন মানিকগঞ্জ সদর উপজেলার দিঘি গ্রামের অবসরপ্রাপ্ত সরকারি কর্মকর্তা মৃত আব্দুল মান্নানের ছেলে। দুই ভাই ও এক বোনের মধ্যে সবার বড় মোমিন দশ বছর ধরে প্রথম আলো পত্রিকার মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি হিসেবে কর্মরত।
তার আগে নানা অপকর্মের অভিযোগে সাভারে দৈনিক প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক থেকে সম্প্রতি বরখাস্ত অরূপ রায় ছিলেন পত্রিকাটির মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি।

 সাভারে দৈনিক প্রথম আলোর সেই সময়ের প্রতিনিধি বরখাস্ত হলে অরূপকে মানিকগঞ্জ থেকে সাভারে নিয়ে আসা হয়। পরে তাকে নিজস্ব প্রতিবেদক হিসেবে পদোন্নতিও দেয়া হয়।
অরূপ রায় মানিকগঞ্জের সাটুরিয়ার প্রয়াত উৎপল রায়ের ছেলে।
মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাবের একটি সূত্র জানান, অরূপ রায় নানা অপকর্মের কারনে নিজ এলাকা থেকে বিতাড়িত হলে মানিকগঞ্জে আশ্রয় নিলেও সেখানকার গণমাধ্যম কর্মিদের আস্থায় ছিলেন না কখনোই। উগ্র স্বভাবের অরূপ রায়কেও মানিকগঞ্জ প্রেসক্লাব থেকে বের করে দেয়া হয়।
সূত্রমতে, অরূপ রায়ের চোরাবালিতে পরে এর আগেও চাঁদাবাজী মামলার আসামী হন আব্দুল মোমিন।
মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সভাপতি মো. দাউদ আলী প্রথম আলোর নিজস্ব প্রতিবেদক অরূপ রায় ও মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আবদুল মোমিনের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে ২০১৩ সালের ১ জানুয়ারি মানিকগঞ্জ বিচারিক হাকিমের আদালত-৪-এ মামলা করেন।
এ ছাড়াও সম্প্রতি তপন পাল নামের এক ব্যবসায়িকে মাদক মামলায় ফাঁসিয়ে দেবার ভয় ভীতি দেখানোর অডিও ভাইরাল হলে অরূপ রায়কে বরখাস্ত করে প্রথম আলো কর্তৃপক্ষ।
তার আগে ভুয়া পরোয়ানার চক্করে গণস্বাস্থ্য কেন্দ্রের প্রোগ্রাম অফিসারকে দেশের এক কারাগার থেকে আগের কারগারে ৬৮ দিন আটকে রাখার ঘটনায় সিআইডির তদন্তে বেরিয়ে আসে এই অরূপ রায়ের কুখ্যাত চেহারা।
উচ্চ আদালতের নির্দেশনায় তার বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয় আশুলিয়া থানায়। ফৌজদারী দন্ডবিধির ৪০৬/৪২০/৪৬৬/৪৬৮/৪৭১/৩৪৩/৩৪ ধারায় দায়ের করা ওই মামলার নম্বর ৪০। তারিখ ১১/০২/২০২০। মামলাটি বর্তমানে সিআইডি তদন্ত করছে।
একের পর এক মামলার আসামী হলেও থেমে নেই অরূপ রায়ের অপ তৎপরতা। সম্প্রতি নিজের অপকর্মের অংশীদার করার মাধ্যমে প্রথম আলোর মানিকগঞ্জ প্রতিনিধি আব্দুল মোমেনকে বিতর্কিত করছেন অরূপ রায়। নিজের চাকরি হারানোর বেদনা ভুলতে অন্য চাকরি খাওয়ার বন্দোবস্ত পাকাপাকি করতে নতুন ষড়যন্ত্রে মেতে উঠেছেন তিনি। ভুয়া ও কল্পিত ঘটনা সাজিয়ে আব্দুল মোমেনকে দিয়ে সেই সংবাদ প্রকাশের মাধ্যমে সাংবাদিকদের চরিত্র হননের ঘৃন্য খেলায় যুক্ত রয়েছেন তিনি।
সাভার প্রেসক্লাবের সাবেক একজন সাধারণ সম্পাদক জানান, অরূপ রায়ের এমন ঘৃন্য কর্মকান্ডের জন্যে সাভার প্রেসক্লাবের সদস্য পদে আবেদন করেও সদস্য হতে পারেন নি অরূপ রায়। যে কারনে সাভারে গণমাধ্যম কর্মিদের প্রতি তার উষ্মা থাকাটাই স্বাভাবিক।

ReplyForward

Leave a Reply

Your email address will not be published.