আগের দিন তুইও ফোন রিসিভ করিসনি, আমিও করেছিলাম অনেকবার সুশান্ত

কৃপা বসু কলকাতা-তুই ফোনটা তুলিসনি কেন সেদিন? কতবার করলাম, একবার তো রিসিভ করতেই পারতিস নন্দিনী….

——আগের দিন তুইও ফোন রিসিভ করিসনি, আমিও করেছিলাম অনেকবার সুশান্ত…..

——ওহ, প্রতিশোধ নিচ্ছিস! বেশ, তবে থাক তুই নিজের মতো, আমি আর ফোনই করবো না তোকে কোনোদিন নন্দিনী….

তুই কিছুই দেখতে পাস না, তুই কিছুই বুঝতে চাস না নন্দিনী! যে চোখ দেখতে পায় না রান্না করতে গিয়ে তার প্রিয়জনের হাত কতখানি পুড়ে গেছে প্রতি সন্ধেয়….

যে কান শুনতে পায় না কাছের মানুষের জুতোর শব্দ, যে গাল পার্থক্য বোঝে না চোখের জল ও বৃষ্টি ফোঁটার, যে ঠোঁট বোঝে না কতখানি ব্যথা গিলে খেলে কষামাংস ও রসময়ী মিষ্টির স্বাদ ফিকে হয়ে আসে, সেই মানুষের ভেতর কোনো অনুভূতিই নেই, কোনো মন নেই, তাকে ভালোবাসা যায় না নন্দিনী…

——এই শোন সুশান্ত, আমায় সাইকেল থেকে নামিয়ে দে, বাড়ি যাবো। তোর প্রচন্ড অহংকার জানিস তো! কি মনে করিস তুই নিজেকে? সবই তো তোর মুডের উপর নির্ভর করে!…..

ইচ্ছে হলে ফোন করিস, না হলে করিস না, আমি সারাদিন অপেক্ষা করি সুশান্ত, কিন্তু তোর ফোন আসে না। কোনো সম্পর্ক স্রেফ একজনের মুডের উপর নির্ভর করে তো চলতে পারে না।

আর আজকে আমরা যাচ্ছি কোথায় বল তো?

——নন্দিনী সরি বাবু! সারাদিন আমায় গ্যারেজে কাজ করতে হয়, খুব রেগে আছিস জানি, শান্ত হ, আর চেঁচাস না!

তোর এই চিৎকার চেঁচামেচি ভিড় রাস্তায় ভালো লাগছে না, অন্ধকার ঘর হলে দারুণ একটা রোমাঞ্চ সৃষ্টি করতো, ওই যেমন পাতার গায়ে বৃষ্টি ঝিরি, কিংবা শেষ ট্রেন পেরোনো কোনো নিঝুম স্টেশন….

আমি তোর কাছে সম্পর্ক চাইনি, আমি তোর কাছে ঘর চেয়েছি নন্দিনী। আমি চাই আমি যখন ফোন করবো তুই তক্ষুনি ফোনটা তুলবি, বাথরুমে কাপড় কাচা অর্ধেক ফেলে এসেও আমার ফোনটা তুলবি….

থাকুক লেগে তোর হাতে সার্ফের জল, গা অর্ধেক ভিজে থাক জলে, তোর মুখে অগোছালো চুল এসে লেপ্টে থাক, তুই সেই অবস্থায় এসে হাঁপাতে হাঁপাতে আমার ফোনটা তুলবি!….

আমি চাই সারাদিন গ্যারেজে কাজ করে ক্লান্ত হয়ে যখন ঘরের উঠোনে এসে বসবো, তুই ভাত বেড়ে দিবি স্টিলের থালায়, আঁচল দিয়ে মুছে দিবি কপালের ঘাম। তালপাতার পাখায় হাওয়া করে দিবি, আমি চাই আমার শরীরে হাত পা ছড়িয়ে তুই উঠে বসবি, মাথা টিপে দিবি, তারপর আমার বুকের সাথে লেপ্টে ঘুমিয়ে পড়বি….

স্নানের পর তুই যখন ছাদে যাবি, আমি চাই তুই ভেজা পায়ে ঘুঙুর পরবি, যখন আমার আকাশ জুড়ে মেঘ করবে, আমি চাই তুই একটা শীতের দুপুর নিয়ে এসে আমার গায়ে ঢেলে দিবি, যেভাবে মানুষ সিগারেট খাওয়ার শেষে আ্যস্ট্রে থেকে ছড়ায় ছাই…..

প্রতিটা ছেড়ে যাওয়া সম্পর্কের ভেতর একটা অসুখ লেগে থাকে যার কোনো ওষুধ নেই, সেই কারণে আমি তোর কাছে আঁটোসাঁটো কোনো সম্পর্ক চাই না, আমি চাই না তুই আমায় কোনোদিনও ছেড়ে যা, আমি সহ্য করতে পারবো না….

আমি তোর কাছে ছায়া চাই, যত্ন চাই, আদর, আবদার, অভিমান করার জায়গা চাই, প্রশ্রয় চাই….

আমার বুকে লেগে থাকা সমস্ত প্রাক্তন সম্পর্ক থেকে পাওয়া মারাত্মক অসুখ তুই ফুঁ দিয়ে সারিয়ে দিস। আমি সিংহাসন ছেড়ে তোর পায়ে লুটিয়ে পড়বো, আমি চাই আমার মাথা ঝুঁকে যাক একমাত্র তোর সামনে, তুই আমায় সামলে নিবি তো নন্দিনী?

—–সামলে নেবো সুশান্ত, কথা দিলাম। আজ আমরা কোথায় যাচ্ছি বললি না যে….

——-বিয়ে করতে।

——মানে? এভাবে সাইকেলে করে? কিসব বলছিস, এক্ষুনি আমায় নামিয়ে দে….

——-উফফফফ নন্দিনী! আমার খুব পালিয়ে বিয়ে করার ইচ্ছে ছিল অনেকদিন থেকেই, আমার বন্ধুরা ওয়েট করছে, চ আজ বিয়েটা সেরে নিই….

দেখ, বৃষ্টি আসবে এক্ষুনি, বিয়ে করে আমরা ভিজতে ভিজতে বাড়ি ফিরবো, কিরে বিয়ে করবি তো আমায়?

——যদি এভাবেই ভালোবেসে আগলে রাখিস, তাহলে তোর কাছেই থেকে যাবো সুশান্ত…..

Leave a Reply

Your email address will not be published.